Home / Uncategorized / হরিণাকুণ্ডু লালন শাহ্ কলেজে শিক্ষক ও ভবন সংকট সহ নানা বিধ সমস্যায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

হরিণাকুণ্ডু লালন শাহ্ কলেজে শিক্ষক ও ভবন সংকট সহ নানা বিধ সমস্যায় ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

এম.সাইফুজ্জামান তাজু
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী অনার্স কলেজ সরকারি লালন শাহ্ কলেজে শিক্ষক ও একাডেমিক ভবন সংকটে মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল, ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব ও অডিটোরিয়াম না থাকা সহ নানাবিধ সমস্যায় জজরিত উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

মরমী সাধক লালন শাহের নামানুসারে কলেজটি স্থানীয় কিছু শিক্ষানুরাগী ও দানশীল মানুষের সহযোগিতায় ১৯৭২ সালে ২ একর ৯১ শতক জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সরকারের রাষ্ট্রপ্রতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের এ উপজেলায় আগমনের ফলে স্থানীয় মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলার একমাত্র এই কলেজটি জাতীয় করণ করা হয়। ২০১০ সালে বর্তমান সরকারের সময় দুইটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হলেও বর্তমানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৩০০ জন। এত প্রচুর সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য কলেজটিতে রয়েছে মাত্র ৬টি ভবন ও ১৪ শ্রেণি কক্ষ। যা শিক্ষার্থীর তুলনায় নিত্যান্তই অপ্রতুল। ৪২ জন শিক্ষকের পরিবর্তে এখানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন শিক্ষক। বাকী ২৪ জন শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে শূণ্য।

কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান জানান, অনার্স সহ বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে মারাত্মক ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তিনি নিজে সহ কর্মরত শিক্ষকদের নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শূণ্য পদের শিক্ষকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি রয়েছে অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী সংকট। হিসাব রক্ষকের একমাত্র একটি পদ বিগত ৫ বছর ধরে শূণ্য রয়েছে। অফিস সহকারী দুইটি পদের মধ্যে একটি ১৫ বছর ও অন্যটি ৫ বছর ধরে শূণ্য। ১৭ জন কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত মাত্র দুইজন। বাকী ১৫ জন কর্মচারীই মাস্টার রুলের। তারাও আবার সামান্য বেতনে মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে বেশ কয়েকজন কর্মচারী জানান। অধ্যক্ষ আরও জানান ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় একজন, বিজ্ঞান শাখায় ১ জন। প্রাণী বিদ্যা শাখায় ১ জন ও পদার্থ বিজ্ঞান শাখায় ১ জন করে প্রভাষকের সৃষ্ট পদ থাকলেও এসব শাখায় কোন প্রভাষক নেই দীর্ঘদিন ধরেই। এছাড়াও অনার্স শাখায় বাংলা বিভাগে প্রভাষকের দুইটি পদের মধ্যে ৫ বছর ধরে শূণ্য রয়েছে একটি পদ। ইংরেজী বিভাগে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে শূণ্য রয়েছে আরও একজন প্রভাষকের পদ। একই অবস্থা অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও দর্শন বিভাগেরও একই অবস্থা। কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকার সচেতন অভিভাবক বৃন্দ জানান, বর্তমানে কলেজের অধ্যক্ষের আপ্রাণ চেষ্টায় কলেজটির শিক্ষাকার্যক্রম ভালোভাবে চললেও একাডেমিক ভবন, শ্রেণি কক্ষ, ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল, অডিটোরিয়াম সহ নানা বিধ সংকটের কারণে কলেজটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

Check Also

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে ক্রিকেটের কংক্রিট পিচ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে ক্রিকেটের কংক্রিট পিচ নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *